হিরণ্যকশিপু
গল্প · · ৯ মিনিটের পাঠ

এতকাল পরে হিরণ্যকশিপু লোকটা সম্পর্কে আর কি-ই বা বলা যায়?
প্রথমত, সে আসলে লোক ছিল না, ছিল অসুর। তাও আবার যেন-তেন অসুর না, দৈত্যদের রাজা। হয়তো সত্যযুগের ঘটনা বলে, বা তাদের ফ্যামিলিটা পলিটিকাল ফ্যামিলি ছিল বলে, হিরণ্যকশিপুদের বাড়াবাড়ির হিস্ট্রি ছিল। চান্স পেলেই তারা অধর্মসুলভ কাজ-কারবার করে বেড়াতো।
স্বাভাবিকভাবেই দেবতাদের সাথে তাদের বনিবনা হতো না। হিরণ্যকশিপুর ভাই হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীর এমনই ছেড়াবেড়া অবস্থা করেছিল যে স্বয়ং বিষ্ণু তাকে বধ করতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আপনি-আমি হলে এরকম একটা ঘটনার পর আর কিছু না হোক, লোকলজ্জার ভয়ে লাইনে আসতাম। কিন্তু ঐ যে বললাম, বাড়াবাড়ির হিস্ট্রি। রাগে অন্ধ হয়ে হিরণ্যকশিপু প্রতিশোধের উপায় খুঁজতে থাকে।
কিন্তু বিষ্ণু-হত্যার উপায় কি? আর কে-ই বা তাকে এই অকল্পনীয় কাজে সাহায্য করতে পারে? অনেক ভেবে-চিন্তে সে ব্রক্ষ্মার উদ্দেশ্যে কঠিন তপস্যা শুরু করে। তপস্যার তীব্রতায় তার মাথা থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। সেই ধোঁয়ায় মহাবিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে-টেড়ে একাকার। শেষে অন্য দেবতাদের অনুরোধে ব্রক্ষ্মা ভক্তের তপস্যা বন্ধ করতে উপস্থিত হলেন।
ততদিনে এক জায়গায় স্থির থাকতে থাকতে হিরণ্যকশিপুর শরীর পিঁপড়া খেয়ে ফেলেছে। রাজহংসী বিমান থেকে নেমে ব্রক্ষ্মা সঞ্জীবনী জল ছিটিয়ে তার মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করলেন। তারপর বললেন, “তোমার সাধনায় আমি সন্তুষ্ট হয়েছি। বলো, কি বর চাও।”
“ভগবান, আমি অমর হতে চাই,” হিরণ্যকশিপু চোখ পিটপিট করে বলে।
“সেটা হবে না, তুমি অন্য বর চাও।”
“তাহলে আপনি এমন বর দিন, যাতে কোন মানুষ বা পশু আমার কোন ক্ষতি করতে না পারে। দিনে বা রাতে যেন আমার মৃত্যু না হয়, আমি যেন অস্ত্রের অবধ্য হই; শূণ্যে, পাতালে, জলে বা স্থলে যেন আমি না মরি; আমার মৃত্যু যেন ঘরেও না হয়, আবার বাইরেও না হয়…”
“তাই হবে।”
উজ্জীবিত হয়ে হিরণ্যকশিপু ব্রক্ষ্মাকে প্রণাম করে। তার কিছুদিনের মধ্যেই সে দেবলোক আক্রমণ করে।
বরের গুণে হিরণ্যকশিপু স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল জয় করে। দেবরাজ ইন্দ্রকে হারিয়ে সে স্বর্গের সিংহাসনে বসে, তারপর পৃথিবীতে বিষ্ণু-পূজা নিষিদ্ধ করে নিজেকেই ভগবানরূপে মার্কেটিং করে।
(ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্সের এর চেয়ে ভালো নজির বোধহয় আর কোথাও নাই।)
তবু হিরণ্যকশিপুর মনে শান্তি হয় না। কারণ বিষ্ণু উধাও – তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কি আর করা? কেউ অ্যাবসেন্ট থাকলে তো আর তাকে মার্ডার করা যায় না। মন খারাপ করে হিরণ্যকশিপু খারাপ খারাপ কাজ করতে থাকে, আর পরম শত্রুকে হাতের কাছে না পেয়ে ভেতরে ভেতরে ফুঁসতে থাকে।
এর মধ্যে শুরু হয় আরেক যন্ত্রণা। একদিন সে জানতে পারে, তার ছোট ছেলে প্রহ্লাদ মহা বিষ্ণুভক্ত। কি লজ্জা, কি লজ্জা! কয়েকবার শান্টিং দিয়েও যখন ছেলেটাকে লাইনে আনা গেল না, তখন হিরণ্যকশিপু ভাবে, আরো তিনটা ছেলে যেহেতু আছে, এটা না থাকলেও চলে…
বালক প্রহ্লাদকে সে নানাভাবে খুন করার চেষ্টা করে। বিষ খাইয়ে, হাতির পায়ের নিচে ফেলে, জ্বলন্ত চিতায় ঠেলে, ইত্যাদি। কিন্তু প্রত্যেকবার বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ বেঁচে যায়। পুত্রের বিষ্ণু-ভক্তিতে ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে হিরণ্যকশিপু শেষে একদিন একটা স্তম্ভ দেখিয়ে বলে – “তোর ভগবান যদি সবখানে থাকে, তাহলে আমার সামনে এই খাম্বাটার মধ্যে সে নাই কেন? “
প্রহ্লাদ স্মিত হেসে বলে, “তিনি ছিলেন, তিনি আছেন, তিনি থাকবেন।”
ব্যস, হিরণ্যকশিপুর ধৈর্য্যের বাধ ভেঙে যায়। রাগের চোটে সে স্তম্ভটাকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলে, প্রহ্লাদকে আজ সে যেভাবে হোক খুন করেই ছাড়বে… এমন সময় বিদ্যুৎ গর্জনের মতো একটা শব্দ হয়। হিরণ্যকশিপু অবাক হয়ে দেখে, স্তম্ভ-চূ্র্ণের ভেতর থেকে কে যেন হেঁটে আসছে। সে পুরাপুরি মানুষ না, আবার সিংহও না। নৃসিংহরূপে স্বয়ং বিষ্ণু।
দুজনের মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়। জগৎ প্রকম্পিত হয়। অবশেষে হিরণ্যকশিপুর মারা যায় প্রাসাদের প্রবেশদ্বারে – ঘরের ভেতরে না, বাইরেও না। মরার সময় সে স্থলেও ছিল না, আবার শূণ্যেও না; নৃসিংহ তাকে জোর করে উরুর উপর চেপে ধরে ছিলেন।
বিনা অস্ত্রে, স্রেফ নখের থাবায় হিরণ্যকশিপুর নাড়ি-ভুড়ি বের হয়ে গিয়েছিল। বাইরে তখন স্নিগ্ধ গোধূলি।
বহুদিন আগে হিরণ্যকশিপু টাইপ একটা লোকের সাথে আমার পরিচয় ছিল। তার পুরা নাম ছিল কার্লোস এমিলিও এস্তেভেজ সরকার, বা এরকম একটা কিছু।
মা মেক্সিকান, বাবা আমাদের মহল্লার।
ছেলের জন্মের কিছুদিন পর সরকার চাচা মারা যান; আর তার কয়েক বছরের মধ্যে চাচী ঠিক করলেন, একা একা আমেরিকা চলে যাবেন। তাই কার্লোস, ওরফে কাল্লু, ওরফে কালা সরকারের ঠাঁই হয় তার পৈতৃক গুষ্টির আগামসি লেনের ভিটায়। বাইরে থেকে আমাদের ঘুম ঘুম পাড়াটায় কেউ পথ ভুল করে চলে আসলে সেই ধবধবে ফর্সা, স্বর্ণকেশী ছেলেটাকে দেখে টাশকি খেতো। আরো অবাক হতো তার সাথে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে – এসব মানুষদের খিস্তি ঢাকাইয়া গালি দিয়ে কাল্লু অন্যরকম একটা তৃপ্তি পেত।
তারপরও কিন্তু খারাপ ছিল না মানুষটা, অন্তত শুরুর দিকে। আমাদের তল্লাটের আর দশটা বাচ্চার মতোই সে শৈশবে প্রাইভেট কারের পিছনে হৈচৈ করে ছুটোছুটি করে; বেওয়ারিশ কুকুরের ল্যাঞ্জায় আতশবাজি বেঁধে দেয়; এ-বাড়ি ও-বাড়ি পাড়ার বড় ভাইদের লেখা প্রেমপত্র সাপ্লাই করে; বিকেলবেলা বাড়ির ছাদে ঘুড্ডি ওড়ায়; এবং ঘুড্ডি কাটাকাটি নিয়ে অন্য পাড়ার ছেলেদের সাথে মারামারি করতে করতে একসময় বড় হয়ে যায়। মেট্রিকের আগেই সে মদ খাওয়া ধরেছিল, কিন্তু তাতে কি? আমরা না হয় ইন্টারেই ধরেছিলাম। কিছুটা রংবাজি না করলে তো আর বাংলাদেশে পুরুষমানুষ হওয়া যায় না।
ঢাকার কোটিপতিদের তুলনায় খুব একটা অবস্থাপন্ন না হলেও কালাদের শ’ খানেক বস্তিঘর ছিল। তাতে প্রায় হাজারখানেক হতদরিদ্র মানুষের বাস। জমজমাট ব্যবসা, সাথে ফেন্সিডিল আর চোরাই কারেন্টের লাইন সাপ্লাই-টাপ্লাই দিয়ে বেশ ভালোই ইনকাম। কিন্তু কার ভালো লাগে বস্তি দেখাশোনা করতে?
তখন আর দশটা সাহসী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, বি.কম. পড়ুয়া পোলাপানের মতো কাল্লু ডিসিশন নেয় – সে কোনভাবেই ফ্যামিলি বিজনেসে নামবে না। নিজের ব্যবসা করবে, স্বাধীন ব্যবসা। বস্তি বা মুদির দোকান বা চালের আড়ত বা এইধরনের ভেন্দামারা কিছু না – ডিশের ব্যবসা।
শুনে কালা মিয়ার দাদী খুশি হয়, “দ্যাশের ব্যবসা করবি? দ্যাশের?”
বয়সের কারণে প্রায়-কালা ও মাথা নষ্ট দাদীকে সে গম্ভীরভাবে বলে – “জ্বি না দাদী, ডিশের।”
“ও, দিশের? তুই দিশা পাইছস?”
“জ্বি।”
“শুকর আলহামদুলিল্লাহ! আমি জানতাম তুই দিশা পাবি। সবসময় জায়নামাজে বৈসা আমি তোর জন্য দুই হাত তুইলা দোয়া করি…”
দাদীর চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে। কিন্তু কার্লোস সরকার দোয়ায় না, দাওয়ায় বিশ্বাসী। বুড়ি দাদী থেকে শুরু করে নিজের আমেরিকান সৎ বাপ পর্যন্ত চৌদ্দগুষ্টির সবাইকে হেনস্তা করে সে মূলধনের টাকা সংগ্রহ করে, তারপর মহাসমারোহে মিলন মার্কেটে একটা ঝাকানাকা দোকান ভাড়া নেয়।
দোকান উদ্বোধনের আগের দিন রাতে আমি তার সাথে ছিলাম। দুইজন মিলে দেয়ালে বেলুন লাগাচ্ছি, এমন সময় খবর আসে – তার চাচা খুন হয়েছে।
আর কোনদিন ডিশের ব্যবসা করা হয়নি তার। চাচা কিছুদিন ধরে ঝামেলায় ছিল, কিন্তু তাই বলে তাকে মার্ডার হতে হবে? কালা বুঝে পায় না। তার চেয়ে বড় কথা, খুনীরা কে সেটা সবার জানা। এমন কি তাদের কয়েকজন এসে চাচার কুলখানিতে মিষ্টির প্যাকেটও নিয়ে যায়। বহু চেষ্টা-চরিত্র করেও সেই খুনীদের নামে থানায় মামলা দেওয়া যায় না। যেন প্রশাসনের চোখে সন্ত্রাসী সম্প্রদায় অদৃশ্য।
এভাবেই আগামসি লেনের আর কয়েক হাজার মানুষের মতো কার্লোস সরকারের জীবনটা মাথা নিচু করে কেটে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়তো তার শরীরে বিদেশি রক্ত ছিল বলে, বা নিজেকে খাঁটি বাংলাদেশি প্রমাণ করার জন্যে, হঠাৎ কি হলো কালা’র – সে ঠিক করলো চেয়ারম্যান ইলেকশনে দাঁড়াবে।
এখন মনে হয়, কালা আসলে যথেষ্ট চিন্তা-ভাবনা করেই কাজটা করেছিল। নিজেদের বস্তি থেকেই তার হাজারখানেক ভোট শিওর ছিল।
তার উপর সে দেখতে অবিকল ফরেনারদের মতো, মহল্লার স্থায়ী বাসিন্দা। তাকে চিনতো বহু লোক।
কথায় কথায় নিজের ছবিসহ কালার পোস্টার ছাপিয়ে (“অমুক ভাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা“)…এলাকার লিডারদের নান্নার বিরিয়ানীতে ভাসিয়ে (তখন ছিল সাত টাকা প্লেট)… মাসের পর মাস, কিভাবে কিভাবে আরো কত কি কি করে… আমাদের কাল্লু মিয়া ঠাস করে ইলেকশনে জিতে গেল।
বুঝতেই পারছেন ঘটনা কোন্ দিকে মোড় নিচ্ছে। অল্পদিনের মধ্যেই কার্লোস সরকার দু্র্নীতিতে পিএইচডি করে-টরে একাকার। একদিন যেই ছেলেটার ডিশের ব্যবসা করার স্বপ্ন ছিল, তাকে পার্সেন্টেজ না দিয়ে একটা খিলি পান পর্যন্ত বিক্রি করা যায় না। বস্তির ব্যবসায় যার ছিল চরম অনীহা, হাসতে হাসতে সে এখন বড় বড় রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলির জন্য লাশ ফেলে।
আর তার চাচার কিলাররা? কবেই সে তাদেরকে মাফ করে দিয়েছে। তাদের সাথে আমাদের কাল্লু এখন বিজনেস করে।
বিদেশে চলে আসার আগে একদিন একটা ইলেকট্রিক পোস্টের কাছে দাঁড়িয়ে রিকশা খুঁজছি, এমন সময় তার সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। দেখেই সে ছোটবেলার মতো মাইনকা চিপা দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলে, “আবে হালার পুত, যাইতেছস কই?”
আমি বললাম, “দোস্ত, আমেরিকা যাই। পড়তে।”
“তুই রিশকায় কৈরা আম্রিকা যাস?”
“না, মানে মার্চ মাসের ছাব্বিশ তারিখে…“
“হাছা?“
“হ, দোস্ত।”
“ধুর!” সে হাসে। “আয় আমার লগে বিজনেস কর। মনে আছে, আমরা ডিশের বিজনেস করতে গেছিলাম?”
ছোটবেলার বন্ধুত্বের উছিলায় খোঁটা না দিয়ে পারলাম না – বললাম, “হ, কিন্তু তারপর তো তুই রাজনীতির বিজনেসে চৈলা গেলি।”
কালা’র হাসিটা শীতল হয়। আরো কিছুক্ষণ কোন্ শহরে যাচ্ছি, কোন্ সাবজেক্টে মাস্টার্স করতে যাচ্ছি, ইত্যাদি বৃত্তান্ত শুনে সে হাই তুলতে তুলতে বললো – “আচ্ছা, সবাই খালি আম্রিকা যায় ক্যান? আমি এই জিনিসটা কোন দিন বুঝলাম না। এমন কি আছে আম্রিকায় যা বাংলাদেশে নাই?“
আমি তাকে বললাম, আমি যাওয়ার পর সে যেন একবার আমেরিকা ঘুরতে আসে। পাত্তাই দিলো না। উল্টা খুব ভাব নিয়ে বললো, “যা, তোরা সবাই যা। আমি একাই থাইকা যামু সোনার বাংলায়।”
আমি আর কিছু বলার সাহস পেলাম না। আপনার-আমার মতো মানুষরা প্রতিবাদে অভ্যস্ত না।
বলা বাহুল্য, আমি আমেরিকায় সেটেল হয়ে গেছি।
এক-দুই বছর পরপর দেশে যাই, কিন্তু কালা‘র সাথে আর কখনো দেখা হয় নাই। এখন সে অনেক বড় নেতা। বিধবা, স্কুলছাত্র, শ্রমিক, সাংবাদিক – কেউই তার ছোবলের ঊর্ধে না। মাঝেমধ্যে তার বিরুদ্ধে পত্রপত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি হয়, টক শো‘গুলিতে হাউকাউ হয়। কিন্তু কেউ তাকে স্পর্শ করতে পারে না। গণতন্ত্রের বরে কার্লোস সরকার যেন অমর, সাক্ষাৎ অমর।
এতদিন পরেও কেন আমি কাল্লুকে নিয়ে পড়ে আছি? তাও আবার বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসে? আমি জানি না। ঐ জীবন তো কবেই ফেলে এসেছি। দেশেও আর কখনো চিরতরে ফেরা হবে বলে মনে হয় না। তাহলে কি লাভ আমার এসব করে? এই যে সারাক্ষণ আগামসি লেন’কে নিয়ে টেনশন, রাত-বিরাতে বাংলা পেপারের অনলাইন সংস্করণের সাথে লেপ্টে থাকা – এসবের কি মানে?
কোন লাভ নাই, তবু নিজেকে সামলাতে পারি না। এইতো সেদিনও দুঃস্বপ্ন দেখলাম – আমার সামনে কাল্লু দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে গদা, গায়ে স্বর্ণের পোষাক, চোখে অনেক রাগ। আমাকে নাকি এক্ষুনি মেরে ফেলবে।
আমি প্রাণপণে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করি, আমি তার ছোটবেলার বন্ধু, বিশ্বাসঘাতক না। তবু তার রাগ ঠান্ডা হয় না। আমাকে আক্রমণ করতে সে তেড়ে আসে।
আমি ছুটে গিয়ে একটা টানেলের ভেতর ঢুকে পড়ি। টানেলটা অন্ধকার, কিন্তু দূরে আলো দেখা যাচ্ছে। আশায় আশায় আমি ছুটতে থাকি। টানেলের শেষ প্রান্তে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে আবিষ্কার করি, সামনে দেয়াল। পালাবার পথ নাই।
তখন আমি স্বপ্নটায় চিৎকার করে অসহায়ের মতো দেয়ালটা খামচাতে শুরু করি। আমার আঙুলগুলি রক্তাক্ত হয়, দরদর করে আমার শরীর থেকে ঘাম ছুটতে থাকে। এর মধ্যে শুনতে পাই, পেছন থেকে খিস্তি গালি দিতে দিতে কাল্লু এগিয়ে আসছে…
আমি প্রাণপণে তখন স্তম্ভ খুঁজতে থাকি, কিন্তু আশেপাশে কোন স্তম্ভ খুঁজে পাই না।