পর্ব ১১
স্মৃতিচারণ · · ৯ মিনিটের পাঠ

গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বিখ্যাত One Hundred Years of Solitude উপন্যাসে একটা লাইন আছে, বাংলা করলে যেটা দাঁড়ায় – “জগতটা তখনো এত নতুন যে অনেক কিছুরই কোন নাম ছিল না। ইশারার সাহায্যে সেগুলি উল্লেখ করতে হতো।”
আশির দশকে ঢাকা শহর ছিল অনেকটা সেরকম। অলিতে গলিতে অনেক বাড়িরই কোন নাম্বার ছিল না। চিঠিতে প্রাপকের ঠিকানার জায়গায় লেখা থাকতো, অমুক সাহেবের বাড়ি। ইশারার মালা গেঁথে গেঁথে গন্তব্য।
বেশিরভাগ বাড়িতেই ফোন ছিল না। টেলিভিশন তো রীতিমত বড়লোকদের জিনিস। ঢাকা ভার্সিটির আশেপাশে এত ভিড় ছিল না, একধরনের শান্তি ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনী তখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছিল। দুই-তিন টাকা রিকশাভাড়ায় আমাদের বাসা থেকে অনায়াসে গ্রীন রোড চলে যাওয়া যেত।
কাঁঠাল বাগানের ঢালটা তখন সত্যি সত্যি একটা ঢাল ছিল – সেটা দিয়ে রিকশা টেনে তুলতে রিকশাওয়ালাদের ঘাম বের হয়ে যেত। পান্থপথ তখনো হয়নি, বাংলা মটর একটা ডোবা টাইপ এলাকা। পরিবাগে একটা লম্বা (এবং খুব বিপজ্জনক) সাঁকো ছিল, বস্তির বন্ধুদেরকে ইমপ্রেস করতে গিয়ে একবার ঐটা থেকে প্রায় পড়েই গিয়েছিলাম।
গ্রীন রোডের এক ধারে লাইন ধরে বেতের সামগ্রীর দোকান ছিল। ফাইভ স্টার সোনারগাঁ হোটেলের কাছেই ছিল একটা গ্রাম, যেখানে মাটির জিনিসপত্র বানানো হতো – পালপাড়া। ততদিনে নেই, কিন্তু কিছুকাল আগেও নাকি হাতিরপুলে সত্যি সত্যি একটা পুল ছিল, হাতি পার হওয়ার জন্য।
আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, “Oh, really? Do elephants really cross it, daddy?”
“Not anymore. They used to cross it, a long time ago.”
“Like when we were back in London?”
“No,” বাবা হাসে, “A really, really long time ago.”
ঢাকায় আসার ফ্লাইটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ’এর ব্রিটিশ এয়ার হোস্টেসদেরকে দেখে আমি খুশি হয়ে গিয়েছিলাম। মনে মনে আমি তখনো বিলেতি, অতএব আমার চিন্তা – যাক, বিদায়ের মুহূর্তে অন্তত ‘দেশি’ মানুষরা আমাদেরকে পৌঁছে দিচ্ছে!
তার উপর কি বিশাল প্লেন – এত বিরাট একটা জিনিসে করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া যায়, তাও আবার উড়ে উড়ে! তাহলে স্পেইস শাটল না জানি কত মজা চড়তে!
ঝামেলার শুরু টেক-অফ করার সময় – আমার কান বন্ধ হয়ে যায়। কি মুশকিল! নিজের কান যে এভাবে অফ হয়ে যেতে পারে, কে জানতো! আমি চিঁ চিঁ করে কান্নাকাটি শুরু করলাম। প্রেগনেন্ট অবস্থায় প্লেনে চড়াটা এমনিতেই একটা যন্ত্রণা, তার উপর যদি এরকম একটা বাচ্চা থাকে তাহলে তো কথাই নাই – আমার মা ক্লান্ত হয়ে সিটে এলিয়ে পড়ে, আর ঐ অবস্থাতেই আমাকে সান্ত্বনা দিতে থাকে।
বাবা সবসময়ই অ্যানালিটিকাল – ঢোক গেলা, চুইংগাম খাওয়া টাইপ উপদেশ দিয়ে সে আমাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে রাখলো।
একটু পর আমি বললাম, “Daddy?”
“Yes, daddy?”
“I need to pee pee.”
বাবা মুখ শুকনা করে বলে, “Can you hold it?”
আমি মাথা নেড়ে বুঝাই, একদমই না।
“But the seatbelt sign is on – we can’t get up now.”
“Please daddy, please….”
আমার কথা শুনে মা দোয়া পড়া শুরু করে। ঐ বয়েসে বাবা খুব একটা ধার্মিক ছিল না, কিন্তু আমার অবস্থা দেখে সেও বিড়বিড় করে আল্লাহকে খোঁজে।
কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছাই ফাইনাল, আর ঐ মুহূর্তে তাঁর ইশারায় আমার ব্লাডার পারলে নিজেই ছুটে গিয়ে একটা বাথরুম খুঁজে নেয়। বাবা অসহায়ের মতো একটা এয়ারহোস্টেসকে ডেকে অনুরোধ করে, আমাদেরকে যেন টয়লেটে যেতে দেয়া হয়। আমার দেশি মানুষটা রাজি হলো না – টার্বুলেন্সের মধ্যে সিট থেকে উঠা যাবে না, after all, rules are rules.
অতএব, আমি টাইট হয়ে বসে থাকি – এবং সিটবেল্টের সাইনটা অফ হওয়া মাত্র হাউকাউ করে বাবাকে নিয়ে বাথরুমের দিকে ছুটি। গিয়ে দেখি একজন অলরেডি বাথরুম দখল করে বসে আছে। বাবা আবারও আমাকে সান্ত্বনা দেয়, আল্লাহকে ডাকে। আমি এমনভাবে দাঁতমুখ খিঁচে থাকি যেন আমার প্রস্রাব না, হার্ট অ্যাটাক হতে যাচ্ছে।
অবশেষে বাথরুমে ঢুকে দেখি – জায়গাটা এত সংকীর্ন যে দুইজন মিলে ঢোকার উপায় নেই। অর্থাৎ, আমাকে নিজে নিজে প্যান্ট খুলে হিশু করতে হবে, হাত ধুতে হবে, এবং প্যান্ট পড়ে আবার বের হতে হবে – পাঁচ বছর বয়েসে যেটা টানা তিন ঘন্টা Zoom মিটিং করার সমপর্যায়ের যন্ত্রণা।
তাই গাঁইগুঁই শুরু করলাম। বাবা তো অনেক কিছুই পারে, একটু অ্যাডজাস্ট করে যদি কোনমতে দুইজন মিলে বাথরুমে ঢোকা যায়। কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হলো না, একরকম জোর করে আমাকে বাথরুমে ঢোকালো। পৃথিবীটা কী নির্মম, ভাবতে ভাবতে আমি প্রকৃতির কাছে আত্মসমর্পণ করি।
দুই মিনিট পর বাবা নক করে। “Are you done? বাবা, হৈছে?”
“No, daddy.”
“এখনো হয় নাই? There’s people waiting.”
“Sorry, daddy.”
একটু পর আবার দরজায় ধাক্কা। “তাশফীন, তাড়াতাড়ি করো!”
“It’s not coming, daddy.”
“একটু আগে না তুমি… Anyway, come out now.”
প্যান্টের জিপার লাগাতে লাগাতে শুনি, বাবা কাকে যেন বাথরুম আটকে রাখার জন্য স্যরি বলছে।
সিটে ফেরার পনের মিনিটের মধ্যেই আমি বাবাকে একই যন্ত্রণা দেই – তবে এইবার মিশন সাক্সেসফুল।
ফ্লাইটে খাওয়াদাওয়ার অবস্থা দেখে আমি খুব হতাশ হলাম। ইংল্যান্ডে এত মজার মজার খাবার পাওয়া যায়, আর ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মেনু এত জঘন্য!
McDonald’s পর্যন্ত নাই! মনে মনে ঠিক করলাম, ফিরেই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের কাছে একটা চিঠি লিখতে হবে, যাতে ব্রিটেনের মান রক্ষা হয়। তখন মনে পড়লো, আমি তো আর ফিরছি না – তাই মন খারাপ করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে একটা আশ্চর্য ঘটনা ঘটলো। আমি আমার পুরা লন্ডন জীবনের ফ্লাশব্যাক দেখা শুরু করলাম, একদম ছোটবেলা থেকে শুরু করে। দুই-তিন রাত ধরে আমি একই স্বপ্ন দেখলাম, একদম ভিডিও গেম কিংবা সিনেমার মতো।
প্লেনে বসে থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম – এত সময় লাগছে যেতে? স্টার ট্রেকের মতো তাড়াতাড়ি যাওয়া যায় না? কিন্তু ঢাকায় ল্যান্ড করতে করতে ঘুম ভেঙে মনে হলো, ফ্লাইট শেষ? এত তাড়াতাড়ি সময়টা শেষ হয়ে গেল?
এত সহজে শিকড় উপড়ে একটা দেশ থেকে আরেকটা দেশে আসা যায়?
আজ চল্লিশের ঘরে জীবন, কানাডায় থাকি – সেই একই প্রশ্ন মাঝে মাঝে ভাবায়। তাই তো, আসা যায় এত সহজে শিকড় উপড়ে?
নাকি সত্তা জিনিসটা আসলে বৃক্ষ না, শ্যাওলার মতন?
আমাদের ফ্যামিলিতে মুরুব্বিদেরও ‘তুমি’ করে বলার রীতি। আমার বিলেতি উচ্চারণের বাংলায় ‘ত’ ছিল অনেকটা ‘ঠ’ এর মতন, তাই ‘তুমি’ হয়ে গেল ‘ঠুমি’।
এবং অচিরেই আমি আবিষ্কার করলাম, বাংলাদেশে আমার ‘ঠুমি’ করে বলার মতো মানুষ অসংখ্য।
ল্যান্ডিংয়ের পরপরই গোঁফঅলা একটা লোক বিমানের ইউনিফর্ম পড়ে প্লেনে উঠে পড়লো। আমার কাছে এসে বললো, “আরে দোস্ত! আমাকে চিনতে পারছ? How are you?”
এই লোকটা মাজন দাদা, আমার দীদার তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে এই দিলখোলা মানুষটার সঙ্গে আমার খাতির হয়ে গেল। পরে বড় হয়ে আবিষ্কার করি, এই মানুষটার জীবন একদম সিনেমার মতো।
ঢুলুঢুলু চোখে এয়ারপোর্টে আর কার সাথে দেখা হলো, কখন গাড়িতে উঠলাম – মনে নাই। একসময় সম্বিৎ ফিরে পেয়ে দেখি, গাড়ি শো শো করে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে। জায়গায় জায়গায় রাস্তা খুব এবড়োথেবড়ো। আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। রাস্তা জিনিসটা – যার একমাত্র কাজ গাড়ি চলাচলের জন্য মসৃণ হওয়া – সেটা যে এমন হতে পারে, আমার কোন আইডিয়াই ছিল না।
“ওই দেখ! This is Dhaka. দেখতেছ?” বাবা পাশ থেকে বলে।
আমি কিছু বলতে পারি না, মাথা নাড়ি।
রাস্তায় লন্ডনের তুলনায় অনেক মানুষ, কিন্তু তাদের অনেকেরই জামা নেই, বা জামা ছেঁড়া। তিন চাকার বিচিত্র একটা বাহনে সড়ক সয়লাব। একটা পথশিশুকে দেখলাম, বড়জোর বছরখানেক হয়তো বয়স – কোমরে তাবিজ বাঁধার জন্য ছাড়া শরীরে একটা সুতাও নাই।
আমি বিচলিত হয়ে মাকে বললাম, “Mummy look, look, he’s fanta!”
(প্রাগৈতিহাসিক আমলে আমি একবার “ন্যাংটা” শব্দটার বদলে “ফান্টা” বলে ফেলেছিলাম।)
লন্ডন ছাড়ার আগে মেন্টাল প্রিপারেশন হিসাবে আমি স্কুলের লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে এসেছিলাম।
বাংলাদেশ নিয়ে কোন বই না থাকায় ইন্ডিয়াবিষয়ক বইপত্র ঘেঁটে দেখেছিলাম। অ্যাপারেন্টলি ইন্ডিয়ার সব গ্রামই একরকম। সেসব গ্রামের শিশুদের নাম সাধারণত ‘সীতা’, ‘রাজা’, বা ‘রাম’।
ঢাকায় কাঁঠাল বাগানে আমাদের বাসা দেখে jackfruit নিয়ে কোন বই আছে কিনা খুঁজতে গিয়ে দেখি, নাই। তখন Sainsbury’s-এ বাজার করতে গিয়ে ডুরিয়ান ফলকেই কাঁঠাল ভেবে মাকে দিয়ে জোর করে কেনালাম। এবং বাসায় ফিরে সেই ডুরিয়ান ভাঙামাত্রই ওয়াক ওয়াক করে দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম।
সত্যি সত্যি কাঁঠাল বাগানে পৌঁছে দেখি, সেখানে কোন কাঁঠাল গাছই নাই! শুধু তাই না, এলাকাটায় কোন বাগানও নাই। শুধু নামেই “কাঁঠাল বাগান”। চারদিকে শুধু বাসা আর বাসা, বেশিরভাগই দুই-তিন তলা। একদিকে একটা বাজার, আমাদের বাসার কাছে একটা প্রাইমারি স্কুল, আরেক দিকে ঢাল…
আমি বাবাকে বললাম, “Daddy, where are all the jackfruit gardens?”
বাবা বললো, “আছে তো – ঐ যে বাজারের দিকে যেতে, অমুক খানে…”
পরে সেখানে গিয়ে দেখি, মোটে দুই-তিনটা কাঁঠাল গাছ। এতই জীর্ন যে বৃক্ষদের জন্য বিশাল একটা আই.সি.ইউ. থাকলে সেখানেও গাছগুলির জায়গা হতো না। ডাক্তার বলতো, নিয়ে যান, বাড়িতে গিয়ে ভালো-মন্দ যা খেতে চায় খাওয়ান।
আমার জেরার চোটে জন্মদাতা তখন নস্টালজিয়ার ছল-চাতুরীর আশ্রয় নেয় – “ছিল তো, এখানে লাইন দিয়ে কাঁঠাল গাছ ছিল, ঐখানে একটা লেক ছিল, আমাদের অনেক রাজহাঁস ছিল…”
আমি সরু চোখে তাকিয়ে তাকে ইঙ্গিত দেই – আমরাও তো কিছুদিন আগে লন্ডনে ছিলাম, তাতে কী? এখন তো নাই। জায়গাটার নাম যে কনফিউজিং সেটা স্বীকার করলেই হয়।
এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের বাসায় ঢুকতে ঢুকতে মনে হয়েছিল – বাসাটা এত অন্ধকার কেন? পরে দেখি, যেখানেই যাই, একটা আবছা অন্ধকার।
যেন লাইটে কুলাচ্ছে না।
“Daddy why is it dark?”
“I think because of low voltage, বাবা।”
খুব যে পুরানো ছিল বাসাটা, তা না। কিন্তু আলো-আঁধারির খেলায় আমার বিলেত-ফেরত চোখে মনে হলো – আমি সপ্তদশ শতাব্দীর কোথাও চলে এসেছি।
“Is this a castle? So cool!”
আমার কথা শুনে বাড়ির বাসিন্দারা হাসে।
তখনো ঠিক তিন তলা না, আড়াই তলার বাসা – উপরতলায় হাফ ছাদ। সেই হাফ ছাদে বসে আমাদের প্রথম ফ্যামিলি গ্যাদারিং হলো। ফুপুদের সাথে, বড় ফুপার সাথে, কমল দাদা (আমার দীদার ছোটভাই), অন্যদের সাথে অনেক কথা হলো। সদ্য ইম্পোর্টেড শিশু হিসাবে আমি সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
সবচেয়ে কম কথা বলছিল যেই মানুষটা, কয়েক বছর আগে যার সাথে আমার লন্ডনেও দেখা হয়েছিল, সে-ই হঠাৎ অফার দিলো – “Do you want to see a magic trick?”
আমি নড়েচড়ে বসি। “What magic trick?”
“Here, can you see this ball?” (হাতে একটা প্লাস্টিকের বল, আমার ফুফাতো বোনের।)
“Yeah.”
“I will make it disappear.”
“Okay….”
আমি এই কথা বলার সাথে সাথে সাদা চুল-দাঁড়ির মানুষটা ঘপ করে বলটা গিলে ফেললো। আমি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম – প্রথমত, এটা কেমন ম্যাজিক? বল খেতে হবে কেন? নাস্তা তো দেয়াই আছে, খিদা লাগলে অন্য কিছু নিয়ে খেলেই তো হয়? এবং দ্বিতীয়ত, টেকনিকালি তো সে তার কথা রেখেছে – বলটা গিলে ফেলেছে, অতএব সেটা এখন disappeared.
আমার ভেতরকার বিজ্ঞানী পিটার পার্কার জাগ্রত হয়। “Show me how you did it.”
“No.”
“Why not?”
“Because it’s magic.”
আমি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলি, “Okay, show me the trick again.”
এবার সে রাজি হয়। আমার অনুরোধে পরপর তৃতীয়বার ম্যাজিকটা দেখাতে গেলে ‘গিলে ফেলা’ বলটা তার বগলের নিচ থেকে ছুটে পালিয়ে যায়।
“Aha! I caught you!” আমি বিশ্বজয়ের হাসি হেসে বলি।
“Yes, you did!” সেও হাসে।
এভাবেই আমার দাদার সাথে পুনর্পরিচয়।
[ চলবে ]