পর্ব ১৪
স্মৃতিচারণ · · ৯ মিনিটের পাঠ

ভায়োলেন্স জিনিসটা যে বাঙালির কতটা মজ্জাগত, তার কিছু কিছু নমুনায় আমরা বেশ অভ্যস্ত। যেমন নির্বাচনী প্রার্থীর মার খাওয়া।
মিরপুর রোডে উল্টে পড়ে থাকা রিকশা। পলিটিকাল কারণে ইউনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রীদের সেশন লস। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা আট নম্বর বাস। মতিঝিল কিংবা অন্য কোন ঝিলে যাওয়ার পথে হঠাৎ একটা লাশ।
কিছু কিছু ভায়োলেন্স নিয়ে অবশ্য রাখ-ঢাক বেশি হয়। যেন সেগুলি নির্মূল করাটা জরুরী না, কোন মতে এড়িয়ে যেতে পারলেই চলে। যেমন শিশু নির্যাতন। ‘পরিবাগে গেলে ছোট ছোট বাচ্চাদের হাত পা ভাইঙ্গা ভিক্ষা করতে বসায়ে দেয়’ – এত বছর পর পরিবাগ বদলে গেছে হয়তো, কিন্তু কামালের কথাগুলি এখনো আমাকে দুঃস্বপ্ন দেখায়।
বাবু সেদিন তাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘তুই ক্যামনে জানলি?’
শুনে কামাল কিছু বলেনি। কিন্তু তার চোখদুটো সুড়ঙ্গ হয়ে যায়। সেই সুরঙ্গের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমাদের ঘাড় বেয়ে আতংকের ঠান্ডা একটা স্রোত বয়ে যায়।
একসময় সম্বিৎ ফিরে আবার সবাই গুল্লি খেলায় মন দেই। আর কখনো আমরা কামালকে এসব ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করি নাই।
আজকাল পত্র-পত্রিকায় চাইল্ড অ্যাবিউজ, ডমেস্টিক ভায়োলেন্স, ইভ টিজিং – এই জাতীয় টার্ম দেখা যায়। এটা ভালো খবর।
এ জাতীয় ক্রাইমের বিস্তার মোটেও স্বস্তিদায়ক কিছু না, তাই যে কোন স্বাভাবিক সমাজের প্রেক্ষাপটে এটা অবশ্যই খারাপ খবর হতো। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাপারে আমাদের সমাজ একেবারেই স্বাভাবিক না। এই বিষয়গুলি যে আজকাল মিডিয়ায় গুরুত্ব পাচ্ছে, এটাই প্রগ্রেস – এবং সেজন্য ভালো খবর।
এইটিজে চাইল্ড অ্যাবিউজ জিনিসটা যে কতটা নর্মাল ছিল, সেটা আমি দেশে ফেরার অল্পদিনের মধ্যেই টের পাই। বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতো ছোট ছোট বাচ্চারা – শুধুমাত্র পেটের টানে পরিবার-পরিজন ফেলে তাদের ঢাকায় আসা। কারো বয়স পাঁচ, কারো হয়তো বা চৌদ্দ। আড়াই-তিন বছরের শিশুদেরকেও আমি এভাবে মানুষের বাসায় কাজ করতে দেখেছি।
অনেক বাড়িতেই গৃহকর্মীদের বকা বা মার খাওয়া ছিল খুব কমন ঘটনা। একটা অপেক্ষাকৃত ‘ভালো’ বাসায় সেই মার হয়তো অকেশনাল চর-থাপ্পড়ের মধ্যে সীমিত থাকতো। কিন্তু একটা ‘কম ভালো’ বাসায় হাত ফসকে কাঁচের গ্লাস পড়ে ভেঙে গেলে কাজের ছেলে বা মেয়েটাকে মারতে মারতে আধমরা করে ফেলাটা মোটেও আশ্চর্য কিছু ছিল না।
এই সুযোগে রাক্ষস-খোক্কসের সাথে পরিচিত হওয়ার যাক। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন, আমার শৈশবে তারা কোন লেভেলের ত্রাস ছিল। দুর্ভাগ্যবশত দুজনই আমার পরিচিত সার্কেলের মানুষ, তাই প্রায়ই তাদের সাথে দেখা হতো। আমি সাধ্যমত তাদের কাছ থেকে পালিয়ে থাকতাম, এবং আমার বয়েসী অন্যদেরকেও তাদের ব্যাপারে সাবধান করে দিতাম।
গৃহকর্ত্রী খোক্কসের অন্যতম বিনোদন ছিল কারণে-অকারণে বাড়ির কাজের মানুষদের ভয়াবহ মার-ধর করা – এবং ভয়াবহ মানে সাইকোপ্যাথ টাইপ ভয়াবহ। ফর এক্সাম্পল, সে ইচ্ছা করে তার হাতের কোন কোন আঙুলের নখ কামড়ে একটু ধারালো করে রাখতো। যাতে করে সেই হাত দিয়ে চড় দিলে রক্তও বের হয়। রক্ত না বেরোলে নাকি মার সম্পূর্ণ হয় না।
খোক্কসের বাড়ির বেশিরভাগ গৃহকর্মীই ছিল শিশু – বয়সে আমার চেয়ে কিছুটা বড়। মার খেতে খেতে সেই প্রাণীগুলির মুখ-ঠোঁট কেটে ঘা হয়ে যেত। সেই ঘা সহসা শুকানোর সুযোগ পেত না, তার আগেই নতুন আঘাতে পুরানো ক্ষত আবার ভিজে উঠতো। এছাড়া মানসিক নির্যাতন তো ছিলই।
মনে পড়ে, খোক্কসকে সেই ছোট ছোট ছেলেমেয়েগুলি এত ভয় পেত যে, সে কারো নাম ধরে ডাকলে ঐ বাচ্চার ভয়ে কাপড় খারাপ হয়ে যেত। একটা আট-নয় বছরের শিশু মার খাওয়ার ভয়ে হিশু করে দিচ্ছে – এর চেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য কল্পনা করা যায়? একটা মানুষ কী প্রচন্ড বিকৃত হলে কোন শিশুকে এভাবে টর্চার করতে পারে?
কিন্তু এসব নিয়ে খোক্কসের ন্যূনতম লজ্জা বা অনুতাপও ছিল না। বরং বাড়ির কাজের লোকেরা তাকে যমের মতো ভয় পায়, এতে আমাদের খোক্কস লিটারালি পরম আনন্দ পেত। প্রহাররত অবস্থায় তার চোখদুটো খুশিতে চকচক করতো। তারপর মারধর শেষে সে একটু এক্সট্রা রিল্যাক্সড হয়ে, সুন্দর করে শাড়ি-টিপ পরে কোথাও বেড়াতে যেত – যেন তার দিনটা সার্থক।
প্রায়ই সেইসব দিনে তার বাড়ির টেপ রেকর্ডারে লতা মঙ্গেশকরের পুরানো বাংলা গান বাজতো – আজ মন চেয়েছে, আমি হারিয়ে যাবো। হারিয়ে যাবো আমি তোমার সাথে।
ইংল্যান্ডে বাচ্চাদের গায়ে হাত তোলা ভয়াবহ অপরাধ, তাই এসব ঘটনা হজম করতে আমার ভীষণ কষ্ট হতো। এসব নিয়ে খোক্কসের পরিজনদের প্রশ্ন করলে উত্তর আসতো – ‘ও তো এমনই, কি আর করা!’
অথবা, ‘দেখ, তার বাড়ির চাকরবাকরদের জামাকাপড় কত সুন্দর – আহা, তার মনে আসলে কত মায়া!’ অথবা, ‘আমরা কিছু বলতে না পারলেও ঠিকই একদিন আল্লাহ বিচার করবে!’
ইত্যাদি। আসল কথাটা কেউ বলতো না – ফ্যামিলির মধ্যে এরকম চরিত্র থাকলে তাদেরকে কেউ ঘাটাতে চায় না। কারণ ঘাটালে সম্পর্কের বন্ধন একটু নড়বড়ে হয়ে যেতে পারে। এটা খুব uncomfortable একটা ব্যাপার। তার চেয়ে কিছু কাজের মানুষের উপর দিয়ে যাচ্ছে, যাক। কাজের মানুষ তো আর আত্মীয় না।
কেউ খোক্কসকে থামাচ্ছে না দেখে আমি নিজেই একদিন পুলিশ স্টেশনে ফোন দিয়ে বসলাম। বিকালে খোক্কসের খোঁজে পুলিশ হাজির। কিন্তু সেই পুলিশ অফিসার বোধহয় খোক্কসের বাবা বা ভাই বা স্বামীর পূর্বপরিচিত কেউ ছিল, অথবা ঐ আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে চা আর টোস্ট বিস্কুট খাইয়ে সহজেই বিদায় করা যেত – বা এরকম কোন সোনার বাংলা টাইপ কারণে কিছুতেই কিছু হলো না।
অন্যদিকে রাক্ষস ছিল পুরাই অন্য লেভেলের শয়তান। সে ছোট ছোট বাচ্চাদের সাথে খারাপ কাজ করতো।
যেহেতু সে খুব বুদ্ধিমান ছিল, তাই খারাপ কাজগুলি সে করতো খুব সাবধানে, প্রায় ডিটেকটিভ স্টাইলে – যেন কোনভাবেই ধরা না পড়ে। এসব কাজে বাধ্য করতে প্রায়ই তাকে বাচ্চাদের গায়ে হাত তুলতে হতো। সেই মারও সে মারতো পেটে, মাথায় বা অন্ডকোষে – যেন শরীরে কোন চিহ্ন না থাকে।
একজন আমাকে বলেছিল, খারাপ কাজ করার সময় রাক্ষস নাকি তার মুখে বালিশ চেপে ধরতো, যাতে চিৎকারের শব্দ পাশের ঘরেও না যায়। তাই ঘুণাক্ষরেও কেউ রাক্ষসকে সন্দেহ করতো না। তার উপর সবসময় সে ভালোমানুষের ভাব ধরে থাকতো, আর দীর্ঘদিন ধরে সে অসুস্থ ছিল।
এসব কারণে সবসময় সে বড়দের কাছে থেকে বাড়তি সিমপ্যাথি পেত। বলা বাহুল্য, পাঁচ বছর বয়সে আমি এত কিছু বুঝতে পারিনি। ছয়েও পারিনি। সাতে গিয়ে আমার সন্দেহ হয়।
একদিন দেখি একটা ছেলে, আমারই বয়েসী হবে – চোখ মুছতে মুছতে রাক্ষসের বেডরুম থেকে বের হচ্ছে। আমার বুঝতে বাকি থাকে না যে ভয়ংকর, ভয়ংকর একটা কিছু ঘটে গেছে। আমি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বড়দেরকে ব্যাপারটা রিপোর্ট করলাম, কিন্তু ব্যাপারটা কেউ বুঝলো না। একজন তো হেসে কি-না-কি ভেবে উড়িয়েই দিলো। হয়তো ঐ বয়সে এরকম পাপ বর্ণনা করার জন্য আমার vocabularyতে যথেষ্ট শব্দ ছিল না।
কিংবা কে জানে – হয়তো বড়রা শিশুদের চেয়ে রাক্ষসদেরকেই বেশি ভালোবাসে।
কিভাবে কিভাবে যেন আমার নতুন ফ্রেন্ড সার্কেল খোক্কসের নজরে পড়ে যায়।
একদিন আমরা হৈ চৈ করে গুল্লি খেলছি, এমন সময়ে হঠাৎ দেখি সে সামনে দাঁড়িয়ে। সঙ্গে সঙ্গে সে চিৎকার করে বাবু, কামাল, ওদেরকে ‘চোর’ বলে গালাগালি করতে থাকে। ছয় মাস আগে নাকি তার একটা টাওয়েল চুরি হয়েছিল, সেটা ওদের কাজ।
আমি হা করে ব্যাপারটা প্রসেস করতে থাকি। অন্যরা তৎক্ষণাৎ পালায়। খোক্কস কেয়ামতের শিংগার মতো চ্যাঁচাতে চ্যাঁচাতে গেটের দিকে এগিয়ে যায়।
তখন গেটের ফাঁক দিয়ে আমি লক্ষ্য করি, বিড়ালের মতো একজোড়া চোখ চিন্তিতভাবে আমার দিকে রাস্তার উল্টা দিক থেকে তাকিয়ে আছে।
কামাল।
আমি ঠিকঠাক আছি কিনা বোঝার চেষ্টা করছে। আমি হাত নেড়ে তাকে ইশারা দেই – আমি ঠিক আছি, পালাও! এক সেকেন্ডের জন্য তার চুপচাপ দৃষ্টিতে হাসির ঝিলিক দেখা যায়। তারপর সে দৌড়ে পালায়।
আর কখনো তার সাথে আমার দেখা হয়নি।
আজও ভয় হয়, খুব ভয় হয় – কেমন আছে সে? আমাদের গুল্লি খেলার গ্রুপের মধ্যে ঐ ছিল সবচেয়ে গরীব, সত্যিকার অর্থেই ভাসমান।
এখন বুঝি, কামাল ডাস্টবিন থেকে এটা-ওটা সংগ্রহ করে কোথাও একটা বিক্রি করতো – যাকে বলে ‘ময়লা টোকাই’। ওর বাবা-মা, ভাই-বোন কারো সম্পর্কেই সে কখনো কিছু বলেনি। আদৌ কি তার থাকার মতো ঘর ছিল? ফ্যামিলি ছিল?
শেষ পর্যন্ত কি সে অক্ষত একটা শরীর নিয়ে বড় হতে পেরেছিল? এখনো কি বেঁচে আছে?
কে জানে?
এরকম কত শত কামাল, নানাভাবে অ্যাবিউজড হওয়া শিশু সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে?
কে জানে?
এত বছরে ঢাকা অনেক বদলে গেছে। কিন্তু আবার অনেক কিছু আগের মতোই আছে।
বছর ঘুরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ে। ক্যালেন্ডারজুড়ে ছয় ধরনের গ্রীষ্ম রাজত্ব করে। সন্ধ্যার পর কাওরান বাজারে টুকরির ভেতর ভাসমান ছেলেরা ঘুমোয়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তারা স্বপ্ন দেখে।
এখনো বর্ষায় কদম ফুল হাতে পথশিশুরা প্রজাপতির মতো ট্রাফিক সিগনালে ছুটে বেড়ায়। দিনের পর দিন রাস্তায় জ্যাম দেখে প্রশ্নটা মনে এসেই যায় – এদেশের যানবাহনও কি বংশবৃদ্ধি করা শিখে গেছে?
টিভিতে হুমায়ূন আহমদের পুরানো নাটকে দেখে কেউ হাসতে হাসতে সোফা থেকে গড়িয়ে পড়ে যায়। এত বছর পরও ঈদের সময় ঢাকা ফাঁকা হয়ে যায়।
প্রাচীন প্রদীপ জ্বেলে রাতজাগা চাঁদ মেঘে মেঘে পা টিপে এগোয়। অন্ধকার শেষে আবার ভোর হয়, পথের কুকুর আর পথের মানুষ একসাথে হাই তুলে আড়মোড়া ভেঙে দাঁড়ায়। সংসদ ভবনের ছায়ায় মহারাজ নিয়তি যথারীতি বঞ্চনার হালখাতা খুলে বসেন – আজকে কার দিনটা ভালো যাবে, কার কতটুকু সুখ লোকসান হবে, সেসব নির্ধারণ করতে। আমাদের প্রজন্মের আখ্যানে কি নির্যাতিত, হতভাগ্য শিশুদের গল্প কোনদিন ঠাঁই পাবে?
কে জানে?
রাক্ষসটা মারা গেছে। অসুস্থতার কারণে শেষ বয়েসে তার জীবন আর একটা পশুর জীবনের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য ছিল না।
লিখতে লিখতে মনে পড়লো, সেই টাওয়েলটা – খোক্কস যেটা চুরির অপবাদ নির্বাচনী পোস্টারের মতো আমার বন্ধুদের উপর সেঁটে দিয়েছিল – সেটা ঐ সপ্তাহেই তার বাড়িতে খুঁজে পাওয়া যায়। এবং সঙ্গে সঙ্গে এতদিন কেন খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই অজুহাতে টাওয়লের সন্ধানদাতা কাজের মেয়েটা আরেক দফা মার খায়।
অনেক বছর ধরে আমাদের খোক্কস প্রবাসে। এখন সে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে, জায়নামাজে বসে মেকানিকাল তজবিহ টিপে। চান্স পেলেই সে কোরান খতম দেয়। কিন্তু অন্তর্যামী চতুষ্পদ কোন প্রাণী নন যে এসব দেখে পোষ মেনে যাবেন। এখন খোক্কসের দিন আনি, দিন খাই অবস্থা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্তানের লাথি-ঘুষি খেয়ে সে সিড়ি থেকে গড়াতে গড়াতে পড়ে নিজের হাত ভেঙে ফেলেছে।
কিন্তু আমি আবারও ফাস্ট-ফরোয়ার্ড করে ফেলেছি।
১৯৮৫ সাল, সেপ্টেম্বর মাস। আমার মা’র পেটটা আরো স্ফীত হয়। যে কোন সময় তার বেবি হবে। কোন হসপিটালে তার ডেলিভারি হবে, তার আগে-পরে সে কাঁঠাল বাগানে নাকি গ্রীন রোডে আমার নানুবাড়িতে থাকবে – এসব নিয়ে বাসায় আলোচনা চলে।
দিন কেটে যায়। আমি মন খারাপ করে একটা ভালো বন্ধু বা ভাই পাওয়ার অপেক্ষায় থাকি।
লোডশেডিংয়ে বসে থাকতে থাকতে আমি রাতের আকাশের দৃশ্যমান বেশিরভাগ তারা গুণে ফেলি।
একদিন মা হসপিটালে যায়।
তারপর সেখান থেকে সে আমাকে ফোন দিয়ে বলে, ‘আব্বু, আমি খুবই স্যরি…’
[ চলবে ]