বাংলাপ্রিয়বিভাগ
সেই চেনামুখ · পর্ব ১৫

পর্ব ১৫

লেখার আকার

আমি ফোনের রিসিভারটা শক্ত করে ধরে বলি, ‘Why mummy? Why are you sorry?’

ঐ পাশ থেকে মা মন খারাপ গলায় বলে, ‘আব্বু, আমি তোমাকে প্রমিজ করছিলাম তোমার জন্য একটা ব্রাদার নিয়ে আসবো – সেটা যে হচ্ছে না!’

হঠাৎ আমার খুব ভয় হয় – আমার ভাইটা কি জন্মাতে গিয়ে মরে গেছে? কোথায় যেন শুনেছিলাম, অনেক সময় বেবিরা হওয়ার আগেই মরে যায়। লন্ডনে থাকতে আমার জীবনে মৃত্যুর কোন স্থান ছিল না। ’৮৪ সালে আমার দীদা মারা যায়, কিন্তু তখন বয়স কম থাকায় ঘটনাটা আমাকে সেভাবে স্পর্শ করেনি।

তখনো আমার কাছে মৃত্যু জিনিসটা প্রায় কাল্পনিক, লোকমুখে-শোনা একটা ব্যাপার। দেশে ফিরে দেখি, দাদার বেডরুমে দীদার একটা বাঁধাই করা ছবি। সাদা-কালো সেই ছবিতে দীদা তীব্রভাবে তাকিয়ে আছে। মাঝে মাঝে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠতো, মনে হতো দীদা বেঁচে না থাকলেও তার ছবিটা কোন ভৌতিক উপায়ে বেঁচে আছে।

তার উপর দেশের পত্র-পত্রিকায় তখন ক্রাইম সিনের ছবি ছাপা হতো একেবারে খুল্লাম-খুল্লাভাবে – যত ভয়াবহ ফটো, তত যেন ভালো। পূর্ণিমা বা এরকম কোন একটা ম্যাগাজিনে দেখেছিলাম, ছেলেধরাদের একটা ঘাঁটি আবিষ্কার হয়েছে। সেখানে আমার বয়েসী কিছু বাচ্চার কাটা মাথা পাওয়া গেছে – বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে সেসবের হাফ ডজন ছবি।

যেহেতু আমি তখনো বাংলা পড়তে পারি না, আমার ধারণা ছিল ঐগুলি পুতুলের মাথার ছবি। কিন্তু একটা ম্যাগাজিনে পুতুলের মাথার ছবি থাকতে যাবে কেন? তাও বড়দের পায়ের কাছে? মাকে জিজ্ঞেস করার ফলাফল, পত্রিকাটা লুকিয়ে ফেলা হলো। আমারও মাথায় জেদ চেপে গেল, জানতেই হবে। তাই ঠিকই পত্রিকাটা আবার খুঁজে নিলাম।

কঠিন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কখনো কখনো শয়তানের দ্বারস্থ হতে হয়। ভাবলাম খোক্কসকে গিয়ে জিজ্ঞেস করি। খোক্কস দাঁত বের করে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বলে উঠলো – ‘না না, ওরা তো ডেড না! ওরা ঘুমাচ্ছে।’

আমি সন্দিগ্ধভাবে বললাম, ‘I didn’t say they were dead. Are they really dead?’

‘না তো, আমি কখন বললাম সেই কথা? তোমাকে হেল্প করতে চাচ্ছি আর আমাকে উল্টা দোষ দিচ্ছ! বললাম না, ওরা sleeping!’

‘Then where are their bodies?’

শুনে সে দীর্ঘক্ষণ আমাকে সাত-পাঁচ বোঝানোর চেষ্টা করলো। আমি তার তারছেঁড়া চোখদুটোর দিকে তাকিয়ে ফোঁস করে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি – তার মানে ছেলেমেয়েগুলি সত্যি সত্যি মারা গেছে। কিন্তু তাতে আশ্চর্য কি? যে পৃথিবীতে রাক্ষস-খোক্কসরা থাকে, সেখানে আর বাচ্চাদের থাকা না-থাকা…


তাহলে কি আমার ভাইটা – যার সাথে আমার টয় কার নিয়ে খেলার অনেক ইচ্ছে ছিল, যার আশায় আমি সবকিছু ছেড়েছুড়ে বাবা-মা’র সাথে এদেশে এলাম – সে আসার আগেই ছবি হয়ে গেল?

‘আমি রিয়েলি, রিয়েলি স্যরি, আব্বু!’ মা বলতে থাকে। ‘তোমার তো একটা সিস্টার হয়ে গেছে! এখন কী করি, বলো তো? রেখে আসলে তো ও ক্রাই করবে…’

‘Are you sure?’

‘হ্যা বাবা, ও তো অনেক ছোট! She’s just a baby. আমি শিওর ওকে রেখে আসলে অনেক ক্রাই করবে, তোমাকে অনেক খুঁজবে…’

‘No, তুমি কি শিওর it’s a sister and not a brother?’

মা হেসে বলে, ‘Yes, I’m sure!’

‘Okay.’

‘তাহলে কি আমি ওকে হসপিটালে রেখে আসবো?’

‘It’s alright mummy, I like sisters too! I can play with her!’

গর্ভধারিনী আবার হাসে। লেবার পেইন জয় করে অবশেষে ডেলিভারি নিয়ে আশ্বস্ত হতে পারার হাসি। ‘আচ্ছা বাবা, থ্যাংক ইউ। দেখবা, তোমার সিস্টার তোমার অনেক ভালো ফ্রেন্ড হবে, তুমি ওর সাথে টয় নিয়েও খেলতে পারবা।’

তখন আমার মনে পড়ে, মেয়েরা আসলে টয় কার নিয়ে খেলে না। এক মুহূর্তের জন্য আকাশটা যেন একটু ম্লান হয়। আমি তো খুব কঠিন কোন খেলা খেলি না – আমার সিস্টারকে ট্রেনিং দিয়েও কি লাভ হবে না? বড় হয়ে অনেক মেয়ে তো রেসিং কারও চালায়। বেবি গার্লদের কথা অবশ্য আলাদা…

প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলি, ‘When are you coming home, mummy?’

‘এইতো soon, কালকেই হয়তো চলে আসবো।’

পাশ থেকে বাবাকে বলতে শুনি, ‘In one or two days.’

‘না একদিনেই পারবো, আমার বাচ্চাটা একা…’

বাবা-মা নিজেদের মধ্যে দিন-ক্ষণের হিসাব করে। আমি যে এখন তাদের একমাত্র সন্তান না, সিনিয়র সন্তান, সেইসব নিয়ে বাকুম বাকুম গলায় আলাপ করে। আমি রিসিভার ধরে শুনতে থাকি।


‘Mummy?’

‘হ্যা মামি? ‘

‘আমি কি তোমাকে দেখতে আসতে পারি?’

‘এটা তো হসপিটাল, বাচ্চাদের আসা নিষেধ।’

‘But my sister is a বাচ্চা, ও তো hospital এ?’

আমার লজিকাল চিন্তাভাবনায় বাবা-মা মুগ্ধ হয়, কিন্তু কিছুই করার নাই – বয়সের কারণে হসপিটালে আমার প্রবেশ বারণ।

‘.... আচ্ছা আব্বু, রাখি এখন? মামি খুব টায়ার্ড।’

সারাদিন বাসার বড়রা, আমার নানুবাড়ির মানুষজন হাসপাতালে মাকে আর আমার নতুন সিস্টারকে দেখতে যায়।

আমি গাল ফুলিয়ে বসে থাকি।

আমার ছোট ফুফুকে আমরা ‘ছোট্টা’ বলে ডাকি – তখন সে ক্লাস নাইন কি টেনে পড়ে, মেহেরুন্নেসা স্কুলে। বিকেলে সে এসে আমাকে বললো, ‘কি, তুমি আম্মুকে, তোমার বোনকে দেখতে যেতে চাও না?’

আমি তৎক্ষণাৎ বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মাথা নাড়ি – হ্যা চাই।

‘তাহলে যাও নাই যে?’

‘I thought ছোটরা যেতে পারে না।’

‘কে বলছে তোমাকে?

‘Mummy.’

‘মামি ঠিকই বলছে। তারপরও চলো ট্রাই করে দেখি।’

আমি বড় বড় চোখ করে বলি, ‘সত্যি?’

‘হ্যা, সত্যি!’ ছোট্টা হাসে।


রিকশাওয়ালা প্রথমে সাত টাকা ভাড়া চেয়েছিল, কিন্তু শেষে পাঁচ টাকাতেই রাজি হয়ে যায়। আমি আর ছোট্টা চললাম হলি ফ্যামিলি হসপিটালে।

যেতে যেতে সে জিজ্ঞেস করে, ‘তোমার কেমন লাগতেছে? এখন তো তুমি বিগ ব্রাদার হয়ে গেলা!’

আমি কিছু বললাম না। ভাই হলে একটা কিছু বলা যেত, কিন্তু বোন হওয়াতে নিজের ফিলিংস নিজেই বুঝতে পারছিলাম না।

রিকশা এগোতে থাকে।

কিছুক্ষণ পর বললাম, ‘ছোট্টা, when I was a baby তখন কি তুমি আমাকে দেখছিলা?’

‘ও মা, দেখছিনা! তুমি হৈছিলা একটা ক্লিনিকে… কি যেন নাম ছিল ডাক্তারটার… ডাঃ ওয়াদুদ। উনার ক্লিনিকে, আমাদের বাসার কাছেই ছিল। এখন আর নাই ক্লিনিকটা।’ তারপর হাসিমুখে যোগ করে – ‘তুমি জন্মের সময় একটা টিকটিকির মতো ছিলা!’

‘You mean like a lizard?’

‘না ঠিক লিজার্ড না… তাহলে কিসের মতো বলা যায়? পুরাই একটা মোমবাতির মতো!’

‘I don’t get it.’

‘মানে তুমি মোমবাতির মতো ধবধবা সাদা, শুকনা, লম্বা একটা বেবি ছিলা। খুব সুন্দর।’

‘But lizards are green.’

‘লিজার্ডের কথা ভুলে যাও। আই ওয়ান্ডার তোমার বোন কেমন হৈছে দেখতে।’

‘আমিও সেটা wondering. And I wonder আমার baby sister car নিয়ে খেলতে পারবে কিনা।’

‘পারবে। কিন্তু তোমার কি মনে হয়? তোমার সিস্টার কার মতো হৈছে দেখতে? তোমার মামির মতো নাকি তোমার ড্যাডির মতো?’

আসলেই তো, কার মতো হয়েছে সে দেখতে? আমি কয়েক সেকেন্ড চিন্তা করে বললাম – ‘Well, hopefully not like a lizard. Or a candle.’


হলি ফ্যামিলি হসপিটালে পৌঁছে দেখি, আমার ভেতরে যাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব। রিসেপশনিস্ট ছোট্টাকে বললো, ‘আপনি একা গিয়ে দেখা করে আসেন।’

আমার ছোট ফুফু চোখ গরম করে বললো, ‘এত ছোট বাচ্চাকে এখানে রেখে আমি ভিতরে যাব দেখা করতে! এটা আপনি কেমন কথা বললেন! তাছাড়া ওরই তো মা পেশেন্ট, ওর মন খারাপ হবে না?’

আমি সঙ্গে সঙ্গে কিউট একটা চেহারা করে লোকটার মন গলানোর চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাতেও তার মধ্যে কোন ভাবান্তর হলো না।

হাল ছেড়ে দিয়ে আমরা হসপিটালের ভেতর একটা ছোট্ট বাগানের ভেতর গিয়ে বসলাম। এখনো দৃশ্যটা ভোরের শিরিরের মতো আমার মনে জ্বলজ্বল করে। আমি মন খারাপ করে হসপিটালের বাগানে কান্নার প্রস্তুতি নিচ্ছি – কতদিন মাকে দেখি না! – এমন সময় ছোট্টা আমাকে সান্ত্বনা-টান্ত্বনা দিয়ে উঠে দাঁড়ায়।

‘যাই, আমি ভেতরে গিয়ে সিস্টারকে বলে দেখি কোনভাবে তোমাকে ঢোকাতে পারি কিনা।’

আমি চোখ মুছতে মুছতে বলি, ‘কাকে বলবা? আমার baby sisterকে?’

‘আরে না!’ সে হেসে ফেলে। ‘হসপিটালের নার্সদেরকে সিস্টার বলে, সেই সিস্টার।’

‘Like Florence Nightingale.’

‘হ্যা।’ ছোট্টা গার্ডেনের পাশে একটা ছোট্ট বিল্ডিংয়ের দিকে ইশারা করে। ‘ঐখানেই তোমার আম্মু আছে, জানালা দিয়ে ঘরটাও দেখা যাচ্ছে। দেখতেছ?’

আমি ঘাড় উঁচু করে উৎসুক দৃষ্টিতে তাকাই। ‘But I can’t see her.’

‘ওরা তো জানে না যে তুমি আসছো। আমি গিয়ে বলে আসতেছি। কিন্তু তোমাকে এখানেই থাকতে হবে, কেমন? ঠিক এই জায়গাটায়, এখন যেভাবে বসে আছো। খবরদার, কোথাও যাবা না।’

‘Take me with you!’

‘বাবা, তোমাকে যে নেওয়া যাবে না – বললো না, লোকটা? তোমাকে এখানেই ওয়েট করতে হবে। আমি এখুনি আসতেছি। আর কেউ তোমাকে নিতে চাইলে কিন্তু যাবা না, বলবা আমার ফুপু ভেতরে গেছে, এখুনি আসতেছে। বা কিছু বলার দরকার নাই, জাস্ট চুপ করে এখানে থাকবা, নড়বা না। পারবা?’

আমি মাথা নাড়ি। বিকেলের রোদে ছোট্টার চোখ ঝিকমিক করে। প্রায় দৌড়ে গিয়ে সে বিল্ডিংয়ের একটা ইউনিফর্ম পরা মহিলার সাথে কথা বলে, বলতে বলতে আমার দিকে আঙুল দিয়ে ইশারা করে। আমি দূর থেকে কিউট ফেইস দেখাই। তারা হাসিমুখে ভিতরে চলে যায়।


বাগানের ধার ঘেঁষে একটা বৃক্ষ। ফুলের গাছ – রঙ্গন, হাস্নাহেনা।

সেগুলি ঘিরে কিছু ব্যস্ত মৌমাছি। বাতাসে ভাসমান ফড়িং। অপেক্ষায় অপেক্ষায় আমার বুকটা ঢিবঢিব করতে থাকে; সত্যি সত্যি তাহলে মা’র সাথে আমার দেখা হতে হচ্ছে? আমার বেবি সিস্টারের সাথেও দেখা হবে?

একটু পরে সিকিউরিটি গার্ড গোছের কেউ একটা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুমি এইখানে কি করো?’

আমি তাকে ভাঙা ভাঙা বাংলায় বোঝানোর চেষ্টা করলাম, আজকেই আমার মায়ের বেবি হয়েছে। আমার বেবি সিস্টার। তাতে খুব একটা কাজ হলো না।

‘তোমার আম্মুর সাথে বেড়াইতে আসছ? কিন্তু বাগানে তো বাচ্চাদের খেলা নিষেধ। তোমার নাম কি?’

আমি কিছু না বলে আমার মায়ের রুমের সেই জানালাটার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকি। লোকটা আরো কিছু প্রশ্ন-টশ্ন করে। আমি তাকে পুরাপুরি উপেক্ষা করে জানালা-দৃষ্টি জারি রাখি।

একটু পরে সে চলে যায়। পাঁচ মিনিট কিংবা অনন্তকাল পরে ছোট্টা দৌড়াতে দৌড়াতে ফিরে আসে।

‘তাশফীন! তাশফীন! তুমি ঠিক আছো তো?’

‘I’m okay! Where are they?’

‘ওরা ভিতরে,’ সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে। ‘তোমাকে আসতে দেয়ার জন্য হসপিটালের লোকজনকে অনেক রিকোয়েস্ট করলাম, তোমার আব্বুও রিকোয়েস্ট করলো, কিছুতেই রাজি হলো না। পেশেন্টের কাছেই আসতে দিবে না। এখানে নিয়মকানুন খুবই কড়া।’

আমি কান্নার প্রস্তুতি নিই।

‘কিন্তু তোমার আম্মু-আব্বু বারান্দা পর্যন্ত আসতেছে। দূর থেকে হলেও তুমি তোমার বেবি সিস্টারকে একটু দেখতে পারবা।’

অতএব, আমি আশায় বুক বাঁধি।

কয়েক মিনিট পরে আমার বাবা এসে প্রথমেই ছোট্টাকে বলে, ‘তুই এইখানে ওকে রেখে গেছিলি? আর কাজ পাস না?’

‘কি করবো, তোমাদেরকে ডাকতে হলেও তো কাউকে ভেতরে যেতে হবে!’

(তখনকার পৃথিবীতে মোবাইল ফোন ছিল না।)

আমার সাথে টুকটাক কথা সেরে বাবা আবার ফিরে যায়, মা আর আমার নতুন বোনকে বারান্দা পর্যন্ত নিয়ে আসবে বলে। ঘাসের উপর দিয়ে যেতে যেতে তার প্লাস্টিকের স্যান্ডেলে ছপছপ আওয়াজ হয়। আমাকে আশ্বস্ত করতে পিছন ফিরে সে একবার হাসিমুখে হাত নাড়ে।

ছোট্টা আমার দিকে তাকিয়ে হাসে। আমিও হাসি।

হাল্কা বাতাস বয়। ঘড়িতে সময় তখন বিকেল পাঁচটা।

একটু পর বাবা, মা, আর আমার বোন সেই বারান্দাটায় আসে। আমি প্রাণপণে হাত নাড়ি। মা চিৎকার করে বলে উঠে – ‘আব্বু! আব্বু! দেখ, তোমার বেবি সিস্টার!’

আমি অবাক হয়ে দেখি, সে একটা ছোট্ট গোলাপি রঙের মানুষকে জড়িয়ে ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সেই নতুন মানুষটার চোখ দেখা যাচ্ছে না – মনে হয় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছে।

এভাবেই তাশনুভার সাথে আমার পরিচয়।

[ চলবে ]

সেই চেনামুখ · ২৪ পর্ব

সব পর্ব

এই লেখককে আরও পড়ুন