বাংলাপ্রিয়বিভাগ
সেই চেনামুখ · পর্ব ২০

পর্ব ২০

লেখার আকার

পীরানি লাইন থেকে আমার দাদা সরে এসেছিল শৈশবেই। যখন তার দশ বছর বয়স, তখনো তার বাজার ভালোই – যশোর অঞ্চল জুড়ে হাজার তিরিশেক মুরিদ।

যে-কোন যুগের স্ট্যান্ডার্ডেই সংখ্যাটা উপেক্ষা করার মতো না।

কিন্তু দাদা এসব একদমই পছন্দ করতো না। কারণ তার মুরিদানের অনেকেই অতিভক্তিবশত শিরক করে বসতো। বিপদে-আপদে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার বদলে দাদার পা ধোয়া পানি খেয়ে ভাবতো, সব ঠিক হয়ে যাবে।

‘Ewww!’ আমি শুনে বলে উঠি। ‘They drank your dirty feet water?’

‘হুম।’

‘Why?’

দাদা পানিপড়ার কনসেপ্টটা আমাকে বুঝিয়ে বলে। আমি তবু বুঝি না। দোয়া পড়ে পানিতে ফুঁ দিলেই পানি ম্যাজিকাল হয়ে যায় – এটা কীভাবে সম্ভব? তাছাড়া, ওরা তো দোয়া-পড়া পানিও খাচ্ছে না, খাচ্ছে পা-ধোয়া পানি। কেন?

‘আর বোলো না, আমার পারমিশন না নিয়েই ওরা আমার পা ধোঁয়া শুরু করতো,’ পিতামহ ভ্রু কুঁচকে বলে। ‘তারপর সেই পানি ঘটি বা বদনার মধ্যে সংগ্রহ করে নিতো।’

‘But why?’

‘তারা ভাবতো সেইটা খাইলে পড়া পানি খাওয়ার চাইতেও বেশি সোয়াব হবে… তওবা, তওবা।’

‘How come you let them?’

‘আমি কি করতে পারি? I was only in class five.’

‘What’s class five?’

‘Class five means…. Grade five.’

‘You mean Year 5?’

‘What is Year 5?’

‘I dunno, it’s the class older kids would go to back in London. I think.’

‘হ্যা, ঐটাই।’

‘Okay.’

‘তো যেটা বলতেছিলাম, আমার পারমিশন না নিয়েই ওরা এভাবে আমার পা-ধোয়া পানি নিয়ে চলে যেত। আবার বিক্রিও করতো। চিন্তা করা যায়? Can you believe it?’

‘I can’t.’

‘Well, it really happened. অনেক বয়স্ক বয়স্ক মানুষ, ষাট-সত্তর বছর বয়স, তারাও, আমার পা ছুঁয়ে কদমবুসি করতো। আমি তো লজ্জায় –‘

‘What’s kodombussie?’

‘কদমবুসি মানে হইতেছে গিয়ে….’


আমাদের এক পূর্বপুরুষ উহুদের যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তিনি ছিলেন ইসলামের ইতিহাসের একেবারে প্রথম দিকের মুসলিম।

উহুদের যুদ্ধের সময়কাল ৬২৫ খৃষ্টাব্দের ২৩শে মার্চ। মদিনার পাশের উহুদ পর্বতের কাছে হয়েছিল যুদ্ধটা, মদিনার মুসলিম এবং মক্কার কুরাইশদের মধ্যে। মুসলিমদের পক্ষে লড়াই করেছিলেন স্বয়ং হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), পরবর্তীকালে ইসলামের প্রধান চার খলিফা আবু বকর (রাঃ), উমর (রাঃ), উসমান (রাঃ), এবং আলী (রাঃ), নবীজীর চাচা হামজা, ইসলামের প্রথম দূত মুসাব ইবনে উমাইর, প্রমুখ। কুরাইশদের পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন প্রবল প্রতাপশালী আবু সুফিয়ান এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ; এদের দুজনই পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং মুসলিমদের পক্ষে বহু যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

আমাদের পূর্বপুরুষ ছিলেন মুসলিম পক্ষে। কিন্তু আমরা জানি, বেশিক্ষণ যুদ্ধে অংশ নিতে পারেননি তিনি – মদিনা থেকে বেশ খানিকটা দূরে থাকতেন বলে তার রণক্ষেত্রে আসতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। ইতিহাসের পেটে অনেক আগেই তার নামটা হারিয়ে গেছে। আমাদের পারিবারিক ইতিহাস লিখিত আকারে ছিল, সেটাও একাত্তরে পাক আর্মি ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিলে ছাই হয়ে যায়।

উহুদের যুদ্ধে মুসলিমরা হেরে গিয়েছিল। যুদ্ধরত অবস্থাতেই সেই পূর্বপুরুষ এবং তার মতো কয়েকজন নির্দেশ পান, দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে ইসলাম প্রচার করতে হবে।

আমরা এও জানি, সেদিন তিনি তার প্রিয় নবীকে দেখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। যুদ্ধের ডামাডোলে সেটা আর সম্ভব হয়নি।

তিনি তার উপর ন্যস্ত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিলেন। বিদায় হজ্জ্বের পর পূর্বপুরুষ ও তার বংশধররা বৃহত্তর আরব অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। সেখান থেকে মধ্য এশিয়া, খুব সম্ভবত চীন, ইরান, তারপর হিন্দুস্তান। আমার দাদার-দাদার-বাবা হুগলিতে একটা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ছিলেন। তার তিন ছেলে, আনফর্চুনেটলি, সেই শহরে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। ভাগ্যান্বেষণে তারা আজকের বাংলাদেশে এসে পৌঁছে।

এক পর্যায়ে রাস্তাটা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায় – দুই ভাই চলে যায় চিটাগংয়ের দিকে, আর অন্য ভাই মাগুরায়। আমরা সেই মাগুরায় থিতু হওয়া ভাইটার বংশধর। অন্য দুই ভাইয়ের সাথে তার আর কখনো দেখা হয়নি। কখনো সে হুগলিও ফিরে যায়নি।

সম্পর্কে সেই মাগুরা-আগত লোকটা আমার দাদার দাদা। আমি গাণিতিক ইতরামি করে বলতাম, দাদা squared.

শুনে আমার দাদা আহত হয়ে বলতো, ‘অমন করে বলে না, খুব ভালো লোক ছিল! আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে পরহেজগার মানুষ!’

আমি পিছুপা না হয়ে বলতাম, ‘হু, পড়ালেখা পারতো না দেখে পীরানি ব্যবসা করতো! He was a bad student!’

কথাটায় একটু সত্যতা থাকায় দাদা কিছু বলতো না, অন্যমনস্ক হয়ে নিজের জিভ কামড়াতো। তার জিভ কামড়ানোর মুদ্রাদোষ ছিল।

(আরেকটু বাংলা শেখার পর ঠাট্টা করে সেটার নাম দিয়েছিলাম – জাবর কাটা।)


আমাদের ফ্যামিলি হিস্ট্রি আমি উত্তরাধিকারসূত্রে পাই আমার দাদার কাছ থেকে। যেমনটা সে পেয়েছিল তার দাদার কাছ থেকে।

আমার পাওয়ার কারণ – আমি ছাড়া এই বিষয়ে কারো তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। বয়স্ক মানুষের সাথে এমনিতেই কেউ কোন গভীর আলোচনায় যেতে চায় না। এয়ারলাইন্সের চাকরির সুবাদে দাদার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে বিভিন্ন দেশে। তাই যেই বয়সে নিজের ছেলেমেয়েদেরকে ফ্যামিলি হিস্ট্রি বললে হয়তো তারাও আগ্রহী হতো, তখন সে খুব একটা উপস্থিতই ছিল না।

তার উপর – আমার ধারণা – বুড়া হওয়ার আগে দাদা বাসার লোকজনের সাথে তেমন একটা ফ্রি ছিল না। বাড়ির কর্তারা একটু গম্ভীর হবে, একটু দূরত্ব মেইনটেইন করে চলবে – এগুলি ঐ আমলের খুব নর্মাল প্র্যাকটিস।

কিন্তু এই ফ্যামিলি হিস্ট্রি কি সত্যি, নাকি নিছক গল্প?

আমি ঠিক শিওর না। যেহেতু এক কালে সাংবাদিকতা করতাম, তাই এভিডেন্স ছাড়া কোন কিছুই আমি ঠাস করে বিশ্বাস করতে পারি না। আবার এটাও ঠিক, পৃথিবীর বিভিন্ন গোষ্ঠীর ইতিহাস মূলত সঞ্চারিত হয়েছে oral tradition দিয়েই।

পরবর্তীতে আমি এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলতাম। দাদা খেপে আগুন হয়ে যেত। মাগুরার অ্যাক্সেন্টে বলতো, ‘কী! তোর ধারণা আমি মিছে কথা কতিছি?’

আমি তাড়াতাড়ি তাকে ঠান্ডা করে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলতাম, আমি জানি তুমি মোটেও মিথ্যা বলো না, কিন্তু তারপরও সায়েন্টিফিক কারণে একটু তথ্য-প্রমাণ থাকলে…

শুনে বৃদ্ধ মুখ ফুলিয়ে বলতো, ‘আমরা যে এই দেশের লোক না, এইটা তো আমার দাদাকে দেখলিই বুঝা যাইতো! ধবধবে ফর্সা ছিল। খালি পায়ে হাঁটলে পা লাল টকটকে লাল হয়ে যেত। তা দেইখে গ্রামের লোকজন দৌড়ে আইসে খড়ম আগায়ে দিতো।’

কিন্তু তাতেও পুরাপুরি নিঃসন্দেহ হওয়া যায় না। পার্সিরা ধবধবে ফর্সা হয়। পুনের ব্রাহ্মণরাও তাই। ফর্সা হলেই যে কেউ ইরান থেকে ইমপোর্টেড, এমন কোন কথা নাই।

ইন ফ্যাক্ট, আমাদের বংশ নিয়ে অল্প কয়েকটা ব্যাপারেই শুধু শিওর হওয়া যায় – যেমন, পীরানির ব্যাপারটা। হ্যা, আমরা অন্তত কয়েক জেনারেশন ধরে এই লাইনে ছিলাম; কিন্তু এটা নিয়ে আমাদের কোন fascination নাই। উল্টা কিছুটা embarrassment থাকতে পারে (আমার দাদার মধ্যে যেমনটা লক্ষ্য করতাম)।

আরেকটা ব্যাপার শিওর, বংশানুক্রমিকভাবে আমাদের কোন পদবি বা লাস্ট নেইম নাই। এই যে আমার নাম তাশফীন মাহমুদ, এই ‘মাহমুদ’টা আমার বাবার নাম থেকে পাওয়া – কিন্তু এটা ব্যতিক্রম। গত সাত-আট পুরুষে আমাদের কারো নামের শেষাংশ ‘উদ্দিন’, কারো ‘আলী’, আবার অন্য কারো ‘রহমান’।

আমার মেয়ের নাম লীলা তাশনুভা – তার ফুফুর নামে লাস্ট নেইম।


এখন তাহলে আমার স্বপ্নের ব্যাপারটা বলা যায়। আমার জীবনের প্রথম স্মৃতি একটা স্বপ্ন-স্মৃতি।

জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে যে স্বপ্নগুলি দেখি, সেগুলি আশ্চর্য রকমের জীবন্ত। ইংরেজিতে যাকে বলে lucid dreaming.

হরহামেশাই আমার déjà vu হয় – মানে কিছু একটা স্বপ্নে দেখেছি, পরে হুবহু সেটাই মিলে যায়। ব্যাপারটা কিন্তু আসলে খুব একটা আনকমন না; পৃথিবীতে অসংখ্য মানুষ আছে যাদের এভাবে স্বপ্ন মিলে যায়।

একটু ভুল বলা হলো। আমার স্বপ্নের ব্যাপার-স্যাপার যে ‘বলা যায়’, তা না – বলাটা দরকার। না বললে তাশনুভার সাথে আমার সম্পর্কটা ঠিক বুঝিয়ে বলা যাবে না।

কারণ আমার মতো আমার বোনেরও স্বপ্ন মিলে যেত। শুধু তাই না, আমরা একজন আরেকজনের স্বপ্নে যাওয়া-আসা করতে পারতাম।

এমন অনেকবার হয়েছে, আমরা গল্প করতে করতে ঘুমানোর টাইম হয়ে গেছে। আমার বোন আমাকে বলতো, ‘ওকে, চল স্বপ্নে বাকি কথা শেষ করবো!’

তারপর আমরা দুজনই যার যার বিছানায় ঘুমাতে যেতাম। স্বপ্নে আমি দেখতাম, আমি মেঠোপথ ধরে একটা বনের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছি। পাখিদের কিচিরমিচির শোনা যায়। গাছে গাছে ফুল, কাঠবিড়ালী, মৌমাছি। প্রাণীরা যার যার মতো ব্যস্ত।

একটু পর আমার বোনের সাথে দেখা হয়ে যেত। ও হেসে বলতো, ‘আসছিস?’

তারপর ঘুমাতে যাওয়ার আগের গল্পটা দুজন কন্টিনিউ করতাম। সেটার পর যে যার পথ ধরে অন্য স্বপ্নে বিচরণ।


অনেক বছর পর একদিন এক সাইকোলজিস্টের সাথে কথা বলছিলাম। ভদ্রমহিলা কানাডার সবচেয়ে বিখ্যাত সাইকোলজিস্টদের একজন।

যৌবনে একটা গীর্জার যাজক ছিলেন।

আমার খোয়াব-বৃত্তান্ত শুনে উনি অনেকক্ষণ চুপ করে বসে থাকলেন। তারপর বললেন, ‘তোমার এক্সপিরিয়েন্স, বিশেষ করে তোমার বোনের সাথে shared dreaming এর ব্যাপারটা খুবই unique. এটা প্রায় শোনাই যায় না। তোমার বোনের সাথে তোমার প্রায় spiritual একটা bond ছিল।’

আমি কিছু বলি না, চুপ করে থাকি।

এ-কথা, সে-কথা বলে উনি যোগ করলেন, ‘বাই দ্য ওয়ে, খুব বেশি vivid স্বপ্ন দেখা কিন্তু কিছু কিছু মানসিক রোগের একটা লক্ষণ।’

‘কিন্তু আমার স্বপ্ন তো সবসময়ই vivid. Un-vivid স্বপ্নও যে হয়, এটা আমি জেনেছি অন্যদের স্বপ্নের বর্ণনা শুনে।’

‘মাঝে মাঝে বাস্তবের delusion এই জাতীয় ফর্ম নিতে পারে।’

‘আপনার কি তাই মনে হয়? যে আমি delusional?’

ভালো ছাত্ররা পরীক্ষার হলে অন্যমনস্কভাবে যেভাবে চিন্তা করে, সেই বিশেষজ্ঞ কিছুক্ষণ সেভাবে চিন্তা করে বললেন – ‘না। কিন্তু জাস্ট কেয়ারফুল থাকার জন্য তোমাকে বললাম।’

আমি মাথা নাড়ি।

‘Or –‘

‘Or what?’

আবারও কয়েক সেকেন্ডের চিন্তা। ছোটখাটো মানুষটা সাদা ধবধবে সোফায় নড়েচড়ে বসে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে রইলেন। ‘I think you have what we call in Catholicism – the gift of prophecy.’

তখন ধা করে আমার মনে পড়ে যায় আমার পূর্বপুরুষের কথা।

কিন্তু আমি আবারও ফাস্ট-ফরোয়ার্ড করে ফেলছি।

এইতো কিছুদিন আগে আমরা নানুবাসা থেকে কাঁঠাল বাগানের বাসায় ফিরলাম। আমার বোনের বয়স মোটে এক-দুই মাস। এখনো আমি প্রাণপণে লন্ডনকে মিস করি। ঠিকমতো বাংলা বলা শিখিনি। আমার একমাত্র বন্ধু বস্তির কিছু পোলাপান। তাদের সাথেও আমার আর যোগাযোগ নাই।

অন্য বাচ্চাদেরকে খেলাধূলা করতে দেখে আমি মন খারাপ করে তাকিয়ে থাকি। আমার দিন কাটে মূলত ছুটোছটি করে আর দাদার সাথে গল্প করে। আমার জন্য স্কুল খোঁজা হচ্ছে। প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে বাবা আমাকে বাংলা শেখাতে বসে।

তাশনুভাকে হামাগুড়ি দেয়ার মৃদু ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। তার চোখগুলি বড় বড়। সেই বড় বড় চোখ দিয়ে সে আমার দিকে যেভাবে তাকায়, সেটাকে হাসিহাসি দৃষ্টি বলা যেতে পারে।

১৯৮৫ সালের কাঁঠাল বাগানে হাতেগোনা কয়েকটা উঁচু দালান। দাদার বিছানায় শুয়ে শুয়ে আমি জানালা দিয়ে সরাসরি সূর্যাস্ত দেখতে পারি।

মাঝে মাঝে পুরা এলাকায় কারেন্ট চলে যায়। নির্বিদ্যুৎ রাতের আকাশটা তারায় ছেয়ে যায়। কোটি কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে ভেসে আসা সেই তারাগুলির আলো দেখে আমি ভাবি, আলোর গতি সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার, অতএব এই ঔজ্জ্বল্য বাসি – তারাগুলি কি সত্যি সত্যি টিকে আছে, নাকি তাদের আলোর ফসিলটাই শুধু রয়ে গেছে?

অসম্ভব সুন্দর বৃষ্টিতে মাঝেমধ্যে প্রকৃতি একটু গোসল সেরে নেয়।

প্রতিদিন বিকেলে বাদামঅলা সুর করে হাঁক ছাড়ে, ‘এ-ই-ই বা-দা-ম! চীনা-বাদাম! গরম গরম ভাজা বাদাম!’

টুংটাং শব্দে রিকশার ঝাঁক আমাদের বাসার সামনের রাস্তাটা দিয়ে ছুটে যায়। প্রায়ই বাড়িতে মেহমান আসে, যাদের অনেকের সাথেই আমার আগে কখনো দেখা হয়নি। রাতে খাবার টেবিলে এত লোক হয় যে প্রায়ই চেয়ার শর্ট পড়ে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমি গভীর মনোযোগে গল্পের বই পড়ি। আস্তে আস্তে আমি বাংলাদেশি জীবনে অভ্যস্ত হতে থাকি।

এক সময় আমি ঘুমে ঢলে পড়ি, ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখি।

এখনো আমরা সবাই বেঁচে আছি।

[ চলবে ]

সেই চেনামুখ · ২৪ পর্ব

সব পর্ব

এই লেখককে আরও পড়ুন